recent posts

সদ্য প্রকাশিত

 দ্বীনদার ভাইদের প্রতি,

ইদানিং আমাদের দ্বীনি ভাইদের মাঝে একটি বিষয় খুব বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে যার সারমর্ম হলো- ওয়ায়েজগণের এত অর্থের ডিমান্ড থাকবে কেন? কেন চুক্তিবদ্ধ হয়ে উনাদেরকে আনতে হবে? কেন তারা অর্থের পেছনে ছুটছে? তাদেরতো টার্গেট থাকবে শুধু আখেরাত, দুনিয়া বিমুখ। অথচ অনেককে দেখা যাচ্ছে যে, তার ডিমান্ড অনেক বেশি যদ্দরুন সাধারণ লোক তাকে আনার কথা চিন্তাও করতে পারছে না ইত্যাদি। সংক্ষেপে কিছু প্রয়োজনীয় কথা তুলে ধরা হলোঃ
(১) প্রথমেই মুফতি সাহেব (দিলাওয়ার হুসাইন) দামাতবারাকাতুহুম এর প্রশ্নোত্তর পর্বের একটি প্রশ্নের জবাব উপস্থাপনের চেষ্টা করবো। মুফতী সাহেব হুজুরকে প্রশ্ন করা হলো টাকা-পয়সা চুক্তির বিনিময়ে ওয়াজ করা কি জায়েজ? তিনি উত্তরে বলেনঃ যদি তার অন্য কোন আয়ের মাধ্যম না থাকে এবং এটার উপর তার রুজি-রোজগার নির্ভরশীল তাহলে তার জন্য জায়েয হবে। তবে হ্যা এতে মানুষের উপর (প্রভাব) তা’ছীর কম হবে। যদি সে নিষ্কলুষভাবে আকাবিরদের পদাঙ্কনুসরণে হুবহু আমল করতে পারতো তাহলে উম্মতের অনেক বেশি ফায়দা হতো।
(২) হযরত আরসাদ মাদানী দামাতবারাকাতুহুম (ভারত) বলেন- যদি কেউ ব্যবসা করার উদ্দেশ্যেও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে তাও করুক অন্তত দ্বীনি শিক্ষার প্রচার প্রসার হবে। কারণ যেই হারে বদদ্বীন সয়লাব করছে এতে অধিক হারে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা করার বিকল্প নেই।
(৩) মুফতি (দিলাওয়ার হুসাইন) সাহেব হুজুরকে প্রশ্ন করা হলোঃ হুজুর কুরআন শিক্ষা দিয়ে টাকা নেয়া কি জায়েজ? হযরত জবাবে বলেনঃ জীবন বাঁচানোর তাগিদে মরা গরুর গোশত খাওয়া জায়েজ অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় মরা গরু খাওয়া হারাম। ঠিকতেমনিভাবে দ্বীনি শিক্ষা মানুষের মধ্যে না থাকার কারণে উম্মত আজ মৃতপ্রায় এবং যারা শিক্ষা দিবেন তারাও আর্থিকভাবে এতটা স্বচ্ছল নন যে, অন্যত্র তার ভাল ইনকাম রয়েছে বিধায় সে অবসরে আপনাদেরকে ফ্রি শিক্ষা দিবে। বরং সে যদি টাকা না নিয়ে শিক্ষা দেয় তাহলে পেটের তাগিদে, পরিবারের ভরণ-পোষণের তাগিদে তখন হয়তো সেও এই খেদমত থেকে দূরে সরে যাবে তখন উম্মত কার কাছ থেকে শিখবে? অতএব দ্বীনি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মৃতপ্রায় এই উম্মতকে বাঁচাতে হলে যেমন দ্বীনি শিক্ষার প্রয়োজন আছে তেমনিভাবে শিক্ষকদেরকেও বাঁচার জন্য টাকা দেয়া-নেয়া জায়েজ আছে, এমনকি চুক্তি করেও নিতে পারবে।
কিছু পরামর্শঃ
(১) আলেমদের ভুল হলে আলেমরাই সংশোধন করুক আমরা সাধারণে কথা বলে নিজের ঈমান-আমল ক্ষতির মধ্যে না ফেলি। কারণ ভাল-মন্দ সবকিছুতেই বিদ্যমান।
(২) যাদের ডিমান্ড বেশি তারা কিন্তু আপনাকে আমাকে অনুরোধ কিংবা ফোর্স করেনি যে, আমাদেরকে তোমার নিতেই হবে নইলে খবর আছে কিংবা মামলা করবো? বরং আমরা স্বেচ্ছায় হেদায়েত তলবের আকাঙ্খা বাদ দিয়ে পাবলিককে কিভাবে খুশি করা যায় সেই চেষ্টায় রতঃ বিধায় আমরাই তাদেরকে দাওয়াত দিচ্ছি।
(৩) আমরা যতই নীতি কথা বলিনা কেন বাস্তবে আমাদের মূল ইনকাম সোর্স ঠিক রেখে তারপর আসি অন্যান্য দ্বীনি কাজে। আর অনেকে এসেই আলেমদের সংশোধনের ফিকির করি অথচ তারাও আসমান হতে অবতির্ণ কোন ফেরেশতা নন যাদের কোন ভুল হতে পারে না কিংবা পরিবার-পরিজন, ভরণ-পোষণের চাহিদা নেই যদ্দরুন শুধু দরবেশীর জীবন-যাপন করবেন?
(৪) আমার যদি কাউকে ভাল না লাগে তাহলে যাকে ভাল লাগে তার সোহবতে যাবো কিন্তু প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে তাদের নিন্দা জ্ঞাপন করে পাবলিক প্লেসে আমি কিন্তু পুরো আলেম সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি কতিপয় লোকের ভুলের কারণে। প্রিয় বন্ধু এতে ফায়দার চেয়ে ক্ষতি বেশি হচ্ছে।
(৪) ওজর রয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে নেই এমন হালত কি শুধু আমাদেরই আছে? তাদের থাকতে নেই?
(৫) আলহামদুলিল্লাহ উলামায়েকেরাম এ বিষয়ে লিখছেন, বলছেন আমি সাধারণে চুপ থাকি কারণ এটা আমার দায়িত্ব নয়।
পরিশেষেঃ আমরা সবাই চাই দ্বীনি পরিবেশ কায়েম হউক, দ্বীনদার, ইখলাসওয়ালা মানুষের পরশে থাকা। আমাদের নিয়্যত নিঃসন্দেহে ভাল কিন্তু কখনও কখনও সঠিক বুঝ কিংবা আবেগের তারণায় পদ্ধতিতে গলদ রয়ে যাচ্ছে। আমাদের সব চাওয়া-পাওয়াই যে শতভাগ পূর্ণ হবে এমনটাও নয়, সেহেতু কোন আল্লাহওয়ালার সোহবতে থেকে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার বেশি ফিকির করি। আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন।
shahadat huzaifa


কোন মন্তব্য নেই