recent posts

সদ্য প্রকাশিত

যে সমাজে বিয়ে কঠিন, সেই সমাজ আমি ঘৃণা করি।

 যে সমাজে বিয়ে কঠিন, সেই সমাজ আমি ঘৃণা করি।

সন্তান যখন বিয়ের উপযুক্ত হয় তখন পিতা-মাতার কর্তব্য তাদেরকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া। রাসূল (সাঃ) বলেন- সে যখন পূর্ণবয়স্ক হবে, তখন তার বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। – (তানবীহুল গাফিলিন -৪৭)।
কিন্তু যখন সন্তান বিয়ের কথা পিতা-মাতাকে বলে, তখন পিতা-মাতা তাদেরকে অজুহাত দেখায়, যে দেখ এইসব কি বলো ? আগে নিজের পায়ে দাড়াও, বিয়ে করে স্ত্রীকে কি খাওয়াবে !?
অথচ আল্লাহপাক বলেন - তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ্ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।” (সূরা নূর :৩২)
এবং পিতা-মাতা বলে, তুমি কি দেখতে পাচ্ছো না, তোমার চেয়ে বড় বড় অনেকেই বিয়ের নাম ও মুখে নিচ্ছে না। দেখ পাশের বাসার ছেলেটি, পাশের বাসার মেয়েটি এখনও বিয়ে করেনি, বয়স হয়েছে ত্রিশের উপরে, ওদের থেকে শিক্ষা নাও, ওরা তোমাদের মতো এত বেয়াদব নয়। তোমাদের কি লাজ সরম বলতে কিছু নেই, তোমরা কিভাবে পারলে পিতামাতাকে সরাসরি বিয়ের কথা বলতে !?
রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- যখন সে বালেগ হয় তখন যেন তার বিবাহ দেয়। যদি সে বালেগ হয় এবং তার বিবাহ না দেয় তাহলে সে কোনো পাপ করলে, সে পাপ তার পিতার উপর বর্তাবে। (বায়হাকি, মিশকাত হা-৩১৩৮)
এভাবে তারা, আশেপাশের অনেক ছেলে-মেয়েকে দেখিয়ে সন্তানকে বিয়ে করা থেকে বিরত রাখে৷ তখন সন্তান ভুল পথে চলে যায়। আর যখন সে ভুল পথে যায়, জিনা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন পিতামাতা বলে, তুমি আমাদের মুখে চুনকালি দিয়েছো, তোমার মতো সন্তানের কারণে আজ আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারিনা৷
আফসোস এমন পিতা-মাতার প্রতি। যখন সন্তান বিয়ের কথা বললো, তখন তাকে অজুহাত দেখিয়ে বিয়ে করা থেকে বিরত রেখেছে, তখন নিজের সম্মানের কথা মনে ছিলো না। যখন সন্তান ভুল পথে চলে গেলো, তখনই পিতা-মাতার সম্মানে লেগেছে।
কেন ? দোষটা কার, সন্তানের নাকি আপনার ? অবশ্যই আপনার দোষ, কারণ সময় মতো বিয়ে দিলে সে আর ভুল পথে যেতো না। আপনি তাকে ভুল পথে যেতে বাধ্য করেছেন । এর জন্য আপনি দায়ী, এর জন্য আল্লাহ প্রথমে আপনাকেই শাস্তি দিবেন৷
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- যখন সে বালেগ হবে তখন তার বিয়ে দেয়। বালেগ হওয়ার পরও যদি বিয়ে না দেয় আর সে কোনো গুনাহ করে ফেলে তবে তার এ গুনাহ তার পিতার উপর বর্তাবে। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৬/৪০১, হাদীস ৮৬৬৬)
সন্তান পাপ থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে বিয়ের কথা বলেছে আর আপনি তাকে ঐসকল মানুষের অজুহাত দেখিয়ে বিয়ে করা থেকে বিরত রেখেছেন, যারা কিনা পাপ করেই চলেছে, তাই তাদের বিয়ের প্রয়োজন নেই, সেই জন্যই তারা বিয়ে করছে না। এরকম অনেক ছেলে-মেয়ে আছে, যারা পাপে জড়িত যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। যার জন্য তাদের বয়স ত্রিশ চল্লিশ পার হলেও তাদের সমস্যা নেই, কারণ তারা তো বিয়ে ছাড়াই সব পেয়ে গেছে।
____________________________________________
যে সমাজে বিয়েকে কঠিন করে ফেলে, সেই সমাজে জিনা ব্যভিচার সহজ হয়ে যায়। তাই সন্তানকে সময় মতো বিয়ে দিন, অন্যথায় সে যে গুনাহ করবে অংশীদার আপনিও হবেন।
আপনিও একসময় যুবক ছিলেন, তখনের সময়টা একটু উপলব্ধি করবেন, তখন আপনি দিন গুলো কিভাবে পার করেছেন, ঠিক আপনার সন্তানের বিষয়টাও এভাবে একটু ভাবুন। সে আপনার মতো যুবক। তার ও যৌবন আছে, শুধু যে আপনার ই যৌবন কাল ছিলো, তার নেই , এমনটি নয়৷ তাই সময় থাকতে তাদেরকে বিয়ে দিয়ে, সমাজকে পাপ মুক্ত করুন।
যে সমাজে বিয়ে কঠিন, সেই সমাজ আমি ঘৃণা করি।


কোন মন্তব্য নেই