বিয়ের গুরুত্ব ও ইসলাম!
বিয়ের গুরুত্ব ও ইসলাম!
-------------------------------
“তোমরা নারী’দের মধ্য হতে নিজে’দের পছন্দ মতো বিয়ে করো।”
--- (সূরাঃ আন-নিসা, আয়াতঃ ৩)
ইসলাম ধর্মে নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিয়ে-ই হচ্ছে একমাত্র বৈধ উপায়। আমরা বিয়ে করার মাধ্যমে-ই চরিত্র ও স্বতীত্ব-কে রক্ষা করতে পারি।
যেমন, পোশাক আমাদের দেহ-কে ঢেকে রাখে, নগ্নতা-কুশ্রী বিষয় গুলো প্রকাশ হতে দেয়-না, বিয়ে’ও হচ্ছে ঠিক তেমনি স্বামী-স্ত্রীর দোষ-ত্রুটি ও যৌন উত্তেজনা ঢেকে রাখে, তা প্রকাশ হতে দেয়-না।
আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লা বিয়ের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বন্ধুত্ব, প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মোহাব্বত, দরদ-সহানুভূতি সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
এই বিয়ে-তে স্বামী-স্ত্রীর যৌন সম্ভোগ খুব-ই তৃপ্তি’দায়ক হয়, মুখের গন্ধ হয় খুব-ই মিষ্টি, দাম্পত্য জীবন হয় খুব-ই সুখের, একে-অপরের কথা-বার্তা হয় খুব-ই মধু’ময়। একে-অপরের উপর অধিকার আরোপিত হয় এবং দু’জন দু’জনের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য অবশ্য পালনীয় হয়ে পড়ে।
সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) স্ত্রী সম্পর্ক-কে পরিত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন। যায়দ ইবনু আখযাম (রহঃ) তাঁর বর্ণনায় রিওয়ায়াত করেন যে, কাতাদা তখন নিম্নের আয়াত’টি তিলাওয়াত করেন,
“আপনার পূর্বে আমি অনেক রসূল প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের-কে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছি।”
--- (সূরাঃ রা'দ, আয়াতঃ ৩৮)
উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লা বিয়ে ও স্ত্রী গ্রহণের ব্যবস্থা-কে নবী ও রাসূল’গণের প্রতি এক বিশেষ দ্বান বলে-ই উল্লেখ করেছেন।
ইসলাম বিয়ে-কে অত্যাবশ্যক করেছে। আখ্যায়িত করেছে বিয়ে-কে ইবাদত হিসেবে। রাসূল (সাঃ) বিয়ে-কে সুন্নাত বলেও ঘোষণা করেছেন।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
“বিবাহ করা আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত মোতাবেক কাজ করলো-না সে আমার নয়। তোমরা বিবাহ করো, কেনোনা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মাতের সামনে গর্ব করবো। অতএব যার সামর্থ্য আছে সে যেনো বিবাহ করে এবং যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোযা রাখে। কারণ রোযা তার জন্য জৈবিক উত্তেজনা প্রশমনকারী।”
--- (সুনানে ইবনে মাজাহঃ ১৮৪৬)
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) (একদা) আল্লাহর জন্য স্তূতি বর্ণনা ও প্রশংসা করলেন, আর বললেন,
“আমি তো সালাত আদায় করি, ঘুমা-ই, সওম পালন করি, সওম (নফল) রাখি কোনো সময়ে ত্যাগও করি, মহিলা’দের ‘বিবাহ করি’ (এ-সব-ই আমার আদর্শ’ভুক্ত)। ফলে যে ব্যক্তি আমার তরীকাহ (জীবন’যাপন পদ্ধতি) হতে বি-মুখ হবে সে আমার উম্মাতের মধ্যে নয়।”
--- (বুলুগুল মারামঃ ৯৬৮, বুখারীঃ ৫০৬৩)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
“বান্দা যখন বিবাহ করে তখন সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে নেয়। অতএব তাকে তার অবশিষ্ট অর্ধেক দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহ-কে ভয় করা উচিত।”
--- (হাদীস সম্ভারঃ ২৫৪১)
সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন,
“বিবাহ করো। কারণ এই উম্মতের সর্ব’শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, যার সবার চেয়ে বেশি স্ত্রী। অথবা এই উম্মতের সর্ব’শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সবার চেয়ে বেশি স্ত্রী ছিলো।”
--- (হাদীস সম্ভারঃ ২৫৪৪, বুখারীঃ ৫০৬৯)
কিন্তু? আমাদের কু-প্রথা’ময় সমাজে এক’টি ধারণা প্রচলিত আছে যে,
“ছেলে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে বিয়ে করা ঠিক-না। আগে প্রতিষ্ঠিত তারপর বিয়ে আর মেয়ের বেলায় বয়স হতে হবে ১৮ আরও ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। যতটুকু জানি, এ-দেশের আইনানুযায়ী বিয়ের বয়স মেয়ে ১৮, ছেলে ২১ বছর। তবে ইসলাম কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বয়সের কথা উল্লেখ করে-নি।”
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
রাসূল (সাঃ)-এর সঙ্গে আমরা বের হলাম। আমরা ছিলাম কতিপয় যুবক। কোনো অর্থ-সামর্থ আমাদের ছিলো-না। রাসূল (সাঃ) বললেন,
“হে যুবক সম্প্রদায়, তোমাদের বিবাহ করা কর্তব্য। কেনোনা তা চক্ষু অবনত রাখা ও লজ্জা’স্থান রক্ষার ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক। তবে তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামর্থ নেই তার উচিত সিয়াম পালন করা। কেনোনা সিয়াম তার যৌন প্রবৃত্তিকে অবদমিত করে।”
--- (ইবনু মাজাহঃ ১৮৪৫, তিরমিজীঃ ১০৮১)
আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লা বলেন,
“তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ’হীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসী’দের মধ্যে যারা সৎ-কর্ম’পরায়ন, তাদেরও।”
--- (সূরাঃ আন-নূর, আয়াতঃ ৩২)
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) আরও বলেন,
রাসূল (সাঃ) বিয়ের নির্দেশ দিতেন, বৈরাগ্যপনা (অবিবাহিত থাকা) থেকে কঠোর’ভাবে নিষেধ করতেন এবং বলতেন,
“যারা স্বামী-কে ভালবাসবে এবং বেশি সন্তান জন্ম দেবে এমন মেয়ে’দের তোমরা বিয়ে করো। কেনোনা, আমি কেয়ামতের দিন নবী’দের কাছে বেশী সংখ্যা দেখাতে পারবো।”
--- (ইবনে হিব্বানঃ ৪০২৮)
আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লা বলেন,
“তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদের-কে তাদের মালিকের অনুমতি’ক্রমে বিয়ে করো এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের-কে মোহরানা প্রদান করো এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণ’কারিণী হবে-না।”
--- (সূরাঃ আন নিসা, আয়াতঃ ২৫)
অত্র আয়াত থেকে এটা বুঝতে পারলাম যে,
যিনা-ব্যভিচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (গোপন বন্ধুত্ব করে যৌন স্বাদ আস্বাদন করার সমস্ত পথ বন্ধ করার আদেশ করেছেন,) এ-গুলো শুধু মাত্র বিয়ের মাধ্যমে-ই অর্জন করা সম্ভ্রম হয়।
তাই-তো আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লা বলেন,
“তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।”
--- (সূরাঃ আল বাকারা, আয়াতঃ ১৮৭)
পরিচ্ছদ মানে পোশাক, (উপরেও বলেছি)
পোশাক যেমন মানব দেহ-কে আবৃত করে দেয়, তার নগ্নতা ও কুদর্যতা প্রকাশ হতে দেয়-না এবং সর্ব’প্রকার ক্ষতি থেকে বাঁচায়, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য ঠিক তেমনি, পোশাক।
আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লা বলেন,
“আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের (স্ত্রী) সঙ্গি’নী‘দের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি-তে থাকো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।”
--- (সূরাঃ আর-রূম, আয়াতঃ ২১)
এ-আয়াত দ্বারা এই প্রমাণিত হয় যে, (নারী-কে পুরুষ হতে সৃষ্টি করেন, বিয়ের ব্যবস্থা করেন এবং তা আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লার এক নিদর্শন।) নারী-পুরুষের জন্য তৃপ্তি’দায়ক বস্তু। তৃপ্তি বহাল রাখার জন্য স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রেম-ভালোবাসার ব্যবস্থাও তিনি আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লা করেছেন।
দারিদ্রতা কিংবা অর্থাভাব যেনো কারো বিয়ের পথে বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায় সে-জন্য আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লা স্পষ্ট করে বলেছেন,
“তারা অভাব’গ্ৰস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের-কে অভাব’মুক্ত করে দেবেন, আল্লাহ তো প্রাচুর্য’ময়, সর্বজ্ঞ।”
--- (সূরাঃ আন-নূর, আয়াতঃ ৩২)
দারিদ্র্য-তা ও অর্থ অ-ভাবের কারণ দেখিয়ে বিয়ের বাধার অজুহাত দেখা-নো উচিত নয়। এ-ও হতে পারে বিয়ের পর আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়াতাআ'লা নিজ কৃপায় আপনার দরিদ্রতা-কে ধনবত্তায় পরিবর্তন করে দেবেন।

কোন মন্তব্য নেই