recent posts

সদ্য প্রকাশিত

জিহ!দে বোনেদের ভূমিকা__________৩য় পর্ব

 ময়দানের বাইরে বোনেদের ভূমিকা ---

১.মুজ!হীদ সন্তান গড়ে তোলা-
জিহ!দের ক্ষেত্রে যত সম্ভব এটাই একজম মুসলীম নারীর সর্বাপেক্ষা বড় ভূমিকা। এমন সন্তান গড়ে তোলা যারা হবে সাহসী ও দরদী,শক্ত ও কোমল, অকুতোভয় বীর, যারা একমাত্র অল্লাহর ভয়ে ভীত,আর কারো সামনে মাথা নত করতে জানেনা। তাদের কে এমন ভাবে গড়ে তোলা যেন তারা কেবল মানসিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেই নয় বরং শারীরিকভাবে হবে মজবুত।
আর শুধু এমন ছেলে সন্তান নয় বরং মেয়েদের কেও এমন শিক্ষা দিতে হবে। ছেলে-মেয়েরা ছোট থাকতেই এসব নীতি তাদের মনে গেঁথে দেওয়া সর্বোত্তম! আপনার সন্তান সাত বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইলে হয়তো দেরী হয়ে যাবে, তাই যত শীঘ্র ইসলামের মূল্যবোধ, জিহ!দের স্পৃহা, শাহ!দাতের তামান্না তাদের মধ্যে গেথে দিবেন।
_______আমার প্রিয় বোনেরা নিচের কাজ গুলো খুব সহযেই করা যেতে পারে-
১. সন্তানদের রাতে ঘুমানোর সময় শহীদ ও মুজ!হীদের গল্প শোনা, রাসূল সা. এর সীরাহ থেকে, সাহাবীদের জীবনী থেকে, এমনকি আধুনিক কালেও আপনি এমন বহু কাহিনী পাবেন। সেগুলো সন্তানদের কে আপনি গল্পের ছলে বাচ্চাদের শোনান ইন-শা-আল্লাহ!

Islamic Quotes

২. ছেলে-মেয়ে কে শৃঙ্খলা শিক্ষা দিন।
তাদের কে বলুন যেন তারা কোন মুসলিম কখনো আঘাত না করে, তাদের কে যেন আপন ভাই-বোন ভেবে মাফ করে দেয়।কেবল আল্লাহর শত্রুদের উপর রাগ পোষণ করা,যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তাদের কে শেখান (কাফেরদের প্রতি কঠোর ও মুমিনদের প্রতি নরম)। তাদের সামনে শত্রু হিসেবে কোন একটা বস্তুকে হাজির করুন (যেমন ঘুষি মারার জন্য পাঞ্চিং ব্যাগ ইত্যাদি) এবং তাদের এগুলি ব্যবহার করতে যথাযথভাবে উৎসাহিত করুন! তাদের কে শেখান রাগ কিভাবে সংবরণ করতে হয়,আর রাগকে সঠিক স্রোতে প্রবাহীত করতে হয় (অর্থাৎ আল্লাহ ও মুসলিমদের শত্রু কুফফারদের প্রতি)। বিশেষ করে ছেলেদের জন্য এ পন্থাটি খুব উপযোগি। এতে করে তারা নিজেরাও আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
৩.বাসা থেকে টেলিভিশন পারলে একবারেই সরিয়ে ফেলুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টিভিতে দেখানো হয় অশ্লিলতা হানাহানির বিশৃঙ্খলার জীবন যাত্রা, তাই এটা থেকে সন্তানকে যত দূরে রাখা যায় ততোই উত্তম। আপনার সন্তানেরা কার সাথে মিশছে সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। টিভি দেখার আরেকটি খারাপ দিক হলো মানুষ বিনেদনের জগতে ডুবে গিয়ে বাস্তব জীবনে অকর্মণ্য ও অলস হয়ে যায়, মানশীকভাবে ভোঁতা হয়ে যায়। এর তুলনায় যদি তাদেরকে খেলাধুলায় নিয়োজিত রাখা যায়, সেটা একইসাথে তাদের কে শারীরিকভাবে সুস্বাস্থ্য দিবে। নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলাও শিখাবে।
৪. আপনার পক্ষে যদি বাসা থেকে টিভি দূর করা সম্ভব না হয় তবে অন্তত এটিকে কাজে লাগিয়ে সন্তানদের শিখনীয় অনুষ্ঠান দেখান, যেগুলো তাদের মাঝে আল্লাহভীতি, মুজ!হীদিনদের প্রতি মমতা এবং জিহ!দ ফি সাবিলিল্লাহর ভালোবাসা সৃষ্টি করবে। আপনি চাইলেই বিভিন্ন উৎসাহ থেকে এরকম অনেক ইসলামি ভিডিও যোগার করতে পারেন। যেমন মুজ!হিদীনদের মিলিটারি ট্রেনিং, তাদের জীবন যাত্রা।_____আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমার ভাইটা সব সময় আরতুগ্রুল গাজীর ভিডিও জিহ!দের ট্রেনিং এইসব দেখে।
৫. জিহ!দের প্রস্তুতি হিসেবে নিচের খেলাধুলা ও অভ্যাস গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান -আপনার জন্যও আপনার সন্তানের জন্য। আর সেই সাথে এগুলো স্বাস্থ্যকর …
মার্শাল আর্ট, সাতার, তীর নিক্ষেপ,টার্গেট শুটিং, ডার্ট ছোড়া,ঘোড়দৌড়, বনেবাদাড়ে নিজের পথ খুঁজে পাওয়ার বিদ্যা,স্কিইং, গাড়ি চালানো, (নানা রকম গাড়ি চালানো শেখা, যেমন বাস, লড়ি ইত্যাদি) ক্যাম্পিং, সারভাইভাল ট্রেনিং (টিকে থাকার জন্য একধরনের মজাদার প্রশিক্ষণ)

Islamic Quotes

৬. আপনার সন্তানকে জিহ!দে উৎসাহিত করে তোলার জন্য মিলিটারি বই নিয়ে আসতে পারেন।ছবিসহ বই হলে ভালো হয়। এ ধরনের বই সিডি বিভিন্ন ভিডিও ওয়েবসাইট বা ইন্টারনেট খুঁজে এমন কিছু দেখাতে পারেন। তাদের কে মুজ!হীদিনদের ছবি দেখান,ওদের মতো হওয়ার অনুপ্রেরিত করুন! এই কাজ গুলো তো বাচ্চাদের সাথে একবারে ছোট বয়সেও করা যেতে পারে,বাচ্চাদের বয়স হোক তিন চার বছর। কচি বয়সে শোনা কথা ও দেখা জিনিসগুলো বাচ্চাদের মনে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। জিহ!দের কথা শেখানোর জন্য কোন বয়স নেই,কখনো মনে করবেন না, জিহ!দ শেখানোর জন্য আপনার সন্তানের এখনো বয়স হয়নি! যেভাবেই পারুন তাদেরকে জিহ!দের জন্য প্রশিক্ষন দিন, মুজ!হীদিন হিসেবে প্রস্তুত করে তুলুন!
৭. শারীরিক প্রশিক্ষণ বা বাস্তব অবিজ্ঞতা অবশ্যই ভিডিও গেমস বা কম্পিউটারে বসে ভার্চুয়াল খেলাধুলার চেয়ে বেশি জরুরী। তবে যদি এমন হয় যে, বাচ্চাকে কোন কারনে ভিডিও গেমস খেলতে দিতেই ইচ্ছে, তাহলে বহুল প্রচলিত মূলত অর্থহীন কোন গেমসের বদলে, মিলিটারি গেমস যুদ্ধের কলাকৌশল ব্যবহার করতে হয় এমন গেমস দেওয়া উচিত!তবে এগুলো যেন নৃশংস বা অতিরিক্ত গ্রাফিক না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত!
৮. একজন মাই বলতে পারেন তার সন্তানের কোন বিষয়ে প্রতিভা আছে, তাই তাকে সেদিকে অনুপ্রাণিত করে জিহ!দের জন্য কাজ করতে বলতে পারেন। মনে রাখবেন নানা ভাবে জিহ!দে অংশগ্রহণ করা সম্ভব! যেমন ধরুন, একজন নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী মুসলিমদের জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জোরদার করার জন্য কাজ করবেন, জিনি যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুদক্ষ,তিনি সেভাবে কোন কাজ করবেন যিনি কম্পিউটার জ্ঞান রাখেন, তিনি তার মাধ্যমে মুজাহিদীনদের জন্য ভালো কিছু তৈরি করার চেষ্টা করবেন,কোন নিউজ রিপোর্টার মুজাহিদীনদের খবর সারা বিশ্বে প্রচারের জন্য কাজ করবেন, ডাক্তার বা নার্স চিকিৎসা সেবা দিয়ে মুজাহিদীনদের কাজে আসবেন।
এমনিকরে যে যেভাবে সম্ভব নিজের ক্ষেত্রে থেকেই মুজাহিদীনদের সহযোগিতা করবে। বাচ্চাদের কে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে তাদের জীবনের লক্ষ্য কী?
তারা উপরের কোন উল্লেখিত এরকম কোন বিষয় বেছে নিলেও তাদের উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর পথে সবচেয়ে উত্তম উপায়ে সাহায্য করা (সেটা হলো জিহ!দ) তাদের উদ্দেশ্য যেন কেবল টাকা কামানো বা নিজেদের আরাম-আয়েশ না হয়!
________এখানে একটি বিষয় জোড় দিয়ে বলতে চাই - যে পেশাই হোক না কেন সাধারণ কিছু মিলিটারি প্রশিক্ষণ দেওয়া অবশ্যই কর্তব্য। এমনকি বাবা-মায়ের উপর সন্তানদের হক যে,মিলিটারি প্রশিক্ষন দেওয়াবে।
সামনে আসবে জিহ!দের প্রশিক্ষণ নিলে মেয়েদের যে ফায়দা_______
____________ ইসরাত জাহান সাদিয়া
shahadat huzaifa


কোন মন্তব্য নেই