জিহ!দে বোনেদের ভূমিকা! ______২য় পর্ব
শরিয়তের হুকুম যখন জিহ!দ ফরদুল আইন হয়ে যায় শত্রুরা মুসলিম ভূমিতে আক্রমন করেলে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলীমদের উপর ফরজ হোক সে নারী কিংবা পুরুষ। এমনকি একজন নারী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়াই জিহ!দের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যেতে পারেন।
আল কাসানী আল হানাফি র. বলেন আম অভিজানের ক্ষেত্রে যেমন শত্রুরা যখন মুসলিম ভূমিতে আক্রমন করতে যাচ্ছে তখন এটি ব্যক্তিগত দায়িত্ব (ফরজ আইন) এ পরিণত হয় এমন প্রত্যেক মুসলিমের উপর যারা যুদ্ধের সামর্থ্য রাখে কেননা আল্লাহ সুবহানু তায়ালা বলেন, "তোমরা বেড়িয়ে পড় হালকা কিংবা ভারী হয়ে আর ধন সম্পদ ও জানপ্রান দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহ!দ করো এটি তোমাদের জন্য ভালো যদি তোমরা তা জানতে"________{সূরা- তাওবা ৯:৪১}
বলা হয়ে থাকে এটি আম অভিজানের ক্ষেত্রে মুসলিম সেনাদের উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে নাজিল হয়েছে।
মালেকী গ্রন্থ, সেখানেও এরকম বলা হয়েছে যে, যদি শত্রুরা মুসলিম ভূমিতে আক্রমন করে তবে প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য জিহ!দ একটি ব্যক্তিগত ফরজ কাজে পরিণত হয় ( পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও রমাদনের রোজার মতো)
জিহাদ ফরজে আইন অর্থ হলো জিহ!দের কাজে নিয়জিত হবার জন্য কোন নারীকে তার স্বামী বাবা অথবা ওয়ালী ( অভিভাবক) এর অনুমতি নিতে হবে না। একজন মুসলিমাহ এই মহৎ কাজে অংশগ্রহণ করবে এবং জিহ!দ পরিত্যাগ করার গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। একজন মুসলিমাহ অনেক ভাবে জিহ!দে অংশগ্রহণ করতে পারে মুজাহিদীনদের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে যেয়ে এমনকি ময়দানে না যেয়েও অনেক কিছু করতে পারে।
Islamic Quotes
জিহাদের ক্ষেত্রে মুসলিমাহ বোনদের ভূমিকা ও করনীয় ______
১। সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ ২। জিহ!দের ময়দানে মুজাহিদদের সাহায্য করা ৩। পাহাড়া দান ও নিরাপত্তা।
ময়দানের বাহিরে মুসলিমাহ দের ভুমিকা ও করনীয়----
১.মুজাহিদ সন্তান গড়ে তোলা,
২. শারীরিক প্রশিক্ষণ,
৩. আপনজনদেরকে জিহ!দে যেতে উৎসাহিত করা,
৪. যুদ্ধের ময়দানে ঔষধপত্র ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের প্রশক্ষিন নেওয়া,
৫. শিক্ষাদীক্ষার দ্বারা ভূমিকা রাখা,
৬. টাকা তোলা, ও ৭.দোয়া করা।
নিচে এগুলার উদহারণ দিব ইন-শা-আল্লাহ ধাপে ধাপে।
ময়দানে বোনেদের ভূমিকা___________
১. সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ -
সাধারণত ইসলামে আমরা দেখতে পাই মুসলিম পুরুষেরাই জিহ!দ বা কিতালে অংশগ্রহণ করে থাকেন তবে ইতিহাস ঘেটে যদি দেখি দেখা যাবে রাসূল সা. এর জিবদ্দশা থেকে আজ পর্যন্ত এমন অসংখ্য উদহারণ আছে যখন মুসলিম নারীরা সরাসরি জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন। এ কিছু কথা ও যদি বলতে যাই এই ছোট্ট বিভাগে লিখে শেষ করা যাবে না তাই কয়েকটি উদহারণ নিচে তুলে ধরেছি:
নুসাইবা বিনতে কা'ব তিনি উম্ম আম্মারা নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন শহীদের মা, একজন অকুতোভয় বীর সাহসী সাহাবীর স্ত্রী রা. এই নুসাইবা রা. তার জীবনে একাধিকবার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। একবার তিনি মারাত্মক ভাবে জখম ও হন উহুদ যুদ্ধে। অন্য এক জিহ!দে তার এক হাত ও কাটা পড়ে (মুসাইলামা কাযযাবের যুদ্ধে)। উহুদ যুদ্ধ তার যোগদানের ঘটনাটিই বেশি পরিচিত।
Islamic Quotes
উহুদের ময়দানে তখন মুসলিম সেনাদের মধ্যে ভয়ংকর দ্বিধাদ্বন্দ্ব নাজ করেছে। অপরদিকে রাসূল সা. এর উপর ক!ফেররা একের পর এক আঘাত হানছে, সে সময় খুব অল্প কতক সাহাবী রাসূল সা. এর কাছাকাছি ছিলেন তারা নবিজীকে দেহ দিয়ে সুরক্ষা দান করিছিলেন। এদের একজন হলেন নুসাইবা।
রাসূল সা. এই যুদ্ধের পর বলেন "আমি যখন ডানে ফিরলাম তাকিয়ে দেখি উম্ম আম্মারা, যখন বামে তাকালাম দেখি উম্ম আম্মারা,, জিহ!দের পরেও নবিজী তার জখমের খোঁজ নিতেন। উম্ম আম্মারা কি চান তা জানতে চাইলেন,
নুসাইবা উত্তর দিয়েছিল তিনি জান্নাতে রাসূল সা. এর সঙ্গ কামনা করেন। আল্লাহর রাসূল তার অনুরোধ কবুল করে নেন। সুবহানআল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ্! এর চেয়ে বেশি আমরা আর কি চাইতে পারি?
আল্লাহর পথে কিতালে যোগদান করে নুসাইবা সর্বশ্রেষ্ঠ রহমতের অধিকারী হয়ে গেলেন।
এরপর আমরা দেখি মুসলিমদের বীর যোদ্ধা মাহমুদ কুতুসের স্ত্রীকে। তিনি ছিলেন একজন প্রশিক্ষন প্রাপ্ত মুজ!হূদা, বর্বর মঙ্গোলীয় সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি শহিদ হন। এরকম আরো বহু মুসলিম মুসলিমাহর ত্যাগের মধ্য দিয়েই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাতার বা মঙ্গোলীয়দের বিরুদ্ধে মহা বিজয় দান করেন।
একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন, শারীরিকভাবে যুদ্ধ করা প্রাথমিকভাবে মুসলিম পুরুষদের দায়িত্ব, তবে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে আমাদের অসীম সাহসী বোনেরা কখনোই জিহ!দ থেকে পিছিয়ে থাকেননি।আর ঠিক তেমনি এখনো তাদের জিহ!দ থেকে দূরে থাকাটা উচিৎ হবে না। আর জিহ!দের প্রশিক্ষন নিলে যে, মেয়েদের কতো ফায়দা তা ইন-শা-আল্লাহ সামনে আলোচনা হবে। যে সকল বোনেরা বর্তমান সময়ে জিহ!দে অংশগ্রহণ করতে চান তাদের জন্য একটি কথা আলহামদুলিল্লাহ্ আজ উম্মাহের পরিস্থিতি এতোটা শোচনীয় হয়নি যে,বোনেদের জিহ!দের জন্য ডাকা হচ্ছে। তবে যাই হোক না কেন একজন মুসলিমাহ কে সর্বদাই জিহ!দের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই নিজেদের কে তৈরি করুন হে আমার মুসলিম বোন সকল!
২। জিহ!দের ময়দানে মুজ!হীদদের সাহায্য করা_____
জিহ!দের ময়দানে মুজ!হীদদের সরাসরি সাহায্য করার অনেক রকম উপায় আছে, অবশ্য এটা যুদ্ধের পকৃতির উপর নির্ভর করে। সব ধরনের যুদ্ধে সব ধরনেরর সাহায্যের প্রয়োজন হয়না। তবে সাধারণভাবে বলতে গেলে নিচের কাজ গুলো করা যেতে পারে।
১. চিকিৎসা সেবা -
রাসূল সা. এর জীবনে আমরা দেখি আহত মুজ!হীদদের সেবা-শুশ্রূষা করার ভার সাহাবিয়্যাতদের উপর বার্তাতো।আয়িশা রা. ফাতেমা রা. এবং আরো অনেকে এভাবে জিহ!দে অংশগ্রহণ করেছেন।
২. মুজ!হীদদের খাদ্য ও পানির যোগ দেওয়া-
এটি ছিল সাহাবিয়্যাতদের আরেকটি দায়িত্ব উনারা জিহ!দের মধ্যখানে পানির থলে আর প্রাথমিক চিকিৎসার ঝোলা বয়ে আনতেন, যুদ্ধের উত্তাপে ঘেমেনেয়ে পিপাসার্ত মুজ!হীদদের তৃষ্ণা মেটাতেন। আফগানিস্তানে ১৯৮০ এর দিকে বোনেদের উপর এ ধরনের দায়িত্ব বর্তায়।
৩.অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করা -
এটি আরেকটি ক্ষেত্র যেভাবে বোনেরা সহযোগিতা করতে পারেন। পঞ্চাশোর্ধে এক বোন ইংলেন্ড থেকে অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ পাহাড় পর্বত পেড়িয়ে বসনিয়ার মুসলমানদের জন্য বয়ে আনেন কারন তিনি জানতেন শত্রুপক্ষ তাকে ঘুণাক্ষরেও তাকে সন্দেহ করবেন না।।
Islamic Quotes
৪. মুজ!হিদদের জিহ!দে অটল থাকতে উৎসাহিত করা-
এই কাজটি খুব সুন্দর করে পালন করেছিলেন রাসূল সা. এর ফুফু সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব উনি হলেন শহীদদের সায়্যিদ হামজা রা.বোন,বিশিষ্ট সাহাবা যুবাইর ইবন আউয়ামের মা। উহুদের ময়দানে যাবার সময় উনি একটি ছোড়া সাথে নিলেন। সাহাবীরা রাসূল সা.এর কাছে গিয়ে জানালে নবীজি জানতে চাইলেন এই ছুড়ি নেওয়ার কারণ কি?
তিনি বললেন মুসলিম সেনাদের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, আর যদি কোন মুসলিম জিহ!দের ময়দান থেকে পালানোর দুঃসাহস দেখায় তো তাকে এই ছুড়ি দিয়ে আঘাত করবেন। সুবহানআল্লাহ! এ দায়িত্ব তিনি উত্তমভাবে পালন করেছেন। হিন্দ বিনতে উতবা ইসলাম গ্রহণ করার পর এ কাজটি করতেন। তিনি মুজ!হীদদের উৎসাহিত করতেন। আল্লাহ তায়ালার জন্য দৃঢ় থাকার অনুপ্রেরণা যোগাতেন!
৩।পাহাড়া দান ও নিরাপত্তা ______
জিহ!দের ময়দানে এ দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একজন সাহাবিয়্যাত হলেন সাফিয়্যা বিনতে আব্দুল মুত্তালিব। তিনি খন্দকের যুদ্ধে (আহযাব এর যুদ্ধে) মুসলিম সেনাদের কে পিছন থেকে নিরাপত্তা দিচ্ছিলেন। কেননা সেখানকার ইহুদী গোত্রগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘতকতা ও শওত্রুতা করতো। উনি ছিলেন একটি তাঁবুর ভিতর, সেখানে আরোও অন্যান্য নারীরা এবং অসুস্থ সাহাবী ও ছিলেন (হাসান বিন সাবিত) ছিলেন। উনি হঠাৎ দেখলেন একটি গুপ্তচর এগিয়ে আসছে তাই দেখে তিনি হাসান বীন সামিত রা. বললেন গুপ্তচর কে হত্যা করতে। কিন্তু তিনি অসুস্থতার কারনে অক্ষমতার প্রকাশ করলেন। তখন সাফিয়্যা নিজেই শত্রুর পিছু নিয়ে তাকে পেছন থেকে আঘাত করলেন। তাঁবুর খুঁটি দিয়ে শত্রু কে হত্যা করলেন।
আরেক সাহসি বোন হলেন রাসূল সা. আর সাহাবী আসমা বিনতে ইয়াজিদ রা. বর্ণিত আছে তিনি শত্রুপক্ষের ৯ জন সৈন্যকে হত্যা করেছিলেন। বাকিরা নিজের জানের ভয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লহু-আকবার নারীদের এমন সাহসীকতা তো আজকের বেশিরভাগ পুরুষ কেও লজ্জায় ফেলে দেয়।
________________________________
সামনে ময়দানের বাহিরে বোনদের যে ভূমিকা আলোচনা হবে

কোন মন্তব্য নেই