recent posts

সদ্য প্রকাশিত

বোনেদের জিহ!দে ভূমিকা ________১ম পর্ব

 শরিয়তের হুকুম যখন জিহ!দ ফরযে কিফায়া হয় তখন নারীদের জিহ!দ ফরজ নয় (শত্রুরা যদি মুসলিম ভূমির উপর চলে আসে এবং মুসলিম ভূমিতে আক্রমন করে তবে তখনকার নিয়ম আলাদা কেননা তখন নির্বিশেষে সকল মুসলিম কে বাধ্যতামূলক জিহ!দে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে হবে।)

ইবন কুমাদাহ (র) বলেছেন---
জিহ!দ ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত রয়েছে _
১.মুসলীম হওয়া ২. বালেগ হওয়া ৩.মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া ৪.পুরুষ হওয়া ৫. শারীরিকভাবে যোগ্য হওয়া ৬. আর্থিক ভাবে তা চালানোর সামর্থ্য থাকা।
ইবন উমার বলেনঃ- "উহুদ যুদ্ধের দিন আমি নিজেকে আল্লাহর রাসূলের সামনে হাজির করলাম, তখন আমার বয়স ১৪ বছর। তিনি আমাকে জিহ!দের অনুমতি দিলেন না।
আরেকটি হাদীসে আছে আয়েশা রা. বলেছেন, "হে আল্লাহর রাসূল নারীদের কে কি জিহ!দে যোগ দিতে হবে.?" "তিনি জবাবে বললেন নারীদের জিহাদ হলো হজ্জ এবং উমরা যাতে কোন মারামারি নেই"। এর কারন হলো নারীরা মারামারির জন্য উপযুক্ত নয়, তারা শারীরিকভাবে দূর্বল ও নরম প্রকৃতির। আল- সাবকাশি বলেছেন যে, আমাদের কাছে এটা পছন্দনীয় নয় যে নারীরাও পুরুষদের পাশাপাশি যুদ্ধ করবে কেননা তারা শারীরিকভাবে মারামারির উপযুক্ত নই। আল্লাহর রাসূল ও এটি ইঙ্গিত করেছিলেন, যখন তিনি বলেন এ যোদ্ধা ছিলনা,, (যুদ্ধক্ষেত্রে এক নারীর মৃত দেহ দেখে তিনি এই কথা বলেন) যখন কোন নারী যুদ্ধ করবে তখন তাদের আওরাহ বের হয়ে যেতে পারে এবং মুশরিকীনরা তা দেখে উল্লসিত হয়ে উঠবে, তাদের এই আশা বৃদ্ধি পাবে যে মুসলিমরা দূর্বল বিধায় নারীদের দিয়েও যুদ্ধ করাচ্ছে। আমাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য নারীদের সাহায্য নিতে হয়? সুতরাং এ ব্যাপারটা এড়িয়ে চলা উচিত। এ জন্যে নারীদের জিহ!দের ময়দানে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়নি।
তবে যদি মুসলমানদের আর কোন উপায় না থাকে, এবং যুদ্ধের জন্য বাধ্য করা হয় তখন কেবল এটি হালাল শুধু তাই নয়, বরং বাধ্যতামূলক! কেননা প্রয়োজন হলে যে কোন উপায়ে সম্ভব কুফফারদেরকে অপসারণ করতে হবে। এ বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য হুনাইনের কাহিনীটি বর্ণনা করলাম________
এই কাহিনীর শেষ বেলা বলা আছে যে, উমুম সুলাইম বিনতে মিলহান হুনাইনের যুদ্ধে কাপর পেচিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন তিনি জিজ্ঞাস করেন 'হে আল্লাহর রাসূল তাদের ব্যাপারে আপনার কি মত যারা আপনাকে ছেড়ে পালিয়ে গেল,যারা আপনাকে অপদস্থ করলো? আল্লাহ যদি তাদের উপর আপনাকে ক্ষমতা দান করেন তো আপনার তাকে ক্ষমা করা কি ঠিক হবে না" রাসূল সা. বলেনঃ 'হে উমুম সুলাইম" আল্লাহর ক্ষমা বিশাল" উমুম সুলাইম তিনবার এই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন এনং প্রতিবারই নবিজী একই জবাব দিলেন।
এ যুদ্ধের মতো আর জরুরী সময় কি হতে পারে যখন মুসলিম পুরুষরা আল্লাহর রাসূল সা. কে একা ফেলে ময়দান থেকে পালিয়ে গেছে এই কাহিনী থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, যখন প্রয়োজন হয় তখন নারীদের সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ নেয়াতে সমস্যা নেই। কেননা আল্লাহর রাসূল হুনাইনের যুদ্ধে উমুম সুলাইম কে মারামারি করতে বাধা দেননি। তবে অন্যান্য সময়ে তিনি নারিদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে মারামারিতে যোগদান করার অনুমতি দিয়েছেন এমন বর্ণনা পাওয়া যায়নি।
বয়স্ক মহিলারা যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে যদি আহতদের সেবা প্রদান করে, পানি এনে দেন, মুসিলীম সেনাদের জন্য রান্না করেন তাহলে কোন অসুবিধা নেই। হাদীসে আছে আবদ আল্লাহ ইবন কারাদ আল আজাদীর নিকট থেকে বিকৃত হয়েছেঃ বাইজান্টাইনদের বিরুদ্ধে জিহাদ চলাকালীন সময়ে, খালিদ ইবন ওয়ালিদ এর পরিবারের নারীরা এবং অন্যান্য সাহাবাদের পরিবারের নারীরা তাদের পোষাকের হাতা গুতিয়ে মুজ!হিদদের জন্য পানি নিয়ে আসছিলেন এবং মুজ!হিদদের সাহস জাগিয়ে কবিতা বলেছিলেন!এখানে বয়স্ক নারী বোঝানো হয়েছে, কেননা তরুণী নারীদের জন্য ফিতনার ভয়ে বাহিরে বের হওয়ার অনুমতি নেই। একজন বয়স্ক নারী এক্ষেত্রে এসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে পারেন।
উমুম মুতা খায়বরের যুদ্ধে রাসূল সা. এর সাথে উপস্থিত হয়েছিলেন, তিনি বলেন যে- আসলাম নামের এক আরব গোত্রের লোকেরা রাসূল সা. এর নিকট এসে নিজেদের সমস্যার কথা জানায়। তাই তিনি তাদেরকে জিহ!দ করার পরামর্শ দেন এবং তারা তার ডাকে সারা দেন। আমি দেখতে পেলাম, আসলাম গোত্রের লোকেরা সবার আগে দূর্গের কাছে পৌছে গেল, এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বেই আল্লাহ আমাদের বিজয় দান করলেন ''।
এখান থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে তিনি রাসূল সা. এর সাথে যুদ্ধে গিয়েছিলেন এবং আল্লাহর রাসূল তাকে নিষেধ করেননি। এ থেকে আমরা বলতে পারি যে, বয়স্ক মহিলারা মুজ!হীদিন ভাইদের সহয়তা করা ময়দানে তার উপযুক্ত কোন কাজ করায় কোন সমস্যা নেই।
_________খিশশাফ আল কিনায় উল্লেখ আছে (৩/২৬) মুসলিম
নারীরা (সরাসরি জিহ!দে অংশগ্রহণ করার অনুমোদিত নয়) কেননা তারা ফেতনার উৎস, তাছাড়াও তারা যুদ্ধ করতে সক্ষম নয়,কেননা প্রাকৃতিকভাবেই তারা নরম স্বভাব প্রকৃতির এবং অল্পতেই ভীত হয়ে যায় এবং এর ভয় ও আছে যে, শত্রুরা তাদের ধরে নিয়ে যায় এবং তাদের সাথে অন্যায় কাজ করে। রাসূল সা. এর কাজের উপর ভিত্তি করে কিছু কিছু উলামা বলেছেন: এ নিয়ম আমির বা নেতার স্ত্রীদের উপর প্রাযোজ্য নয়, তারা স্বামীর প্রয়োজনে উপস্থিত থাকতে পারেন এবং বয়স্ক মহিলারাও প্রয়োজন হলে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকতে পারেন।
সো বোঝা গেল এসব ক্ষেত্রে নারীদের ও থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে। কেননা হতে পারে, এ কাজগুলো করতে গিয়ে পুরুষের জিহ!দ থেকে মনোযোগ বিচ্যুত হবে তাই এসব কাজের মাধ্যমে মুসিলীমদের কে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহ!দ চালিয়ে যেতে সাহায্য করা যায়। এতক্ষন যে আলোচনা চললো, তা সাধারণ অর্থে জিহ!দের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ শত্রুরা যখন মুসলীম ভূমিকে আক্রমন করেনি তখনকার কথা বলা হয়েছে,জিহাদ যখন ফরযে কিফায়াহ হয়।
সামনে আসবে জিহ!দ যখন ফরযে আইন হয় তখন বোনেদের ভূমিকা!
___________ ইসরাত জাহান সাদিয়া
shahadat huzaifa

কোন মন্তব্য নেই