recent posts

সদ্য প্রকাশিত

দুআয় ওসীলা গ্রহণ:

 ওসীলা মানে কোনও কিছুর দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া। প্রথমেই একটা কথা ক্লিয়ার হতে হবে, সকল মুসলমানের জন্য আল্লাহর কাছে চাওয়ার পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা আছে। যার ইচ্ছা হয়, সেই আল্লাহর কাছে চাইতে পারবে। দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের মতো আমাদের আল্লাহ নন যে, তার কাছে চাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যক্তির সুপারিশ লাগবে। ইসলাম অন্য অনেক ধর্মের মতো নয়, যেগুলোতে প্রভুর কাছে চাওয়ার জন্য কোনও গাছ, ব্যক্তি বা গোষ্ঠির মধ্যস্ততা প্রয়োজন হয়। বরং প্রত্যেক মুসলমানই আল্লাহর কাছে চাইতে পারে। পবিত্র অবস্থায়ও চাইতে পারে, অপবিত্র অবস্থায়ও চাইতে পারে। বাকী আল্লাহর কাছে চাওয়া একটি ইবাদত। বরং হাদীসের ভাষ্যমতে সকল ইবাদতের মূল-মগজ। তাই দুআর রয়েছে কিছু আদব। কিছু নিয়ম-কানূন। সে সকল আদবসমূহের একিটি আদব হলো, দুআর মধ্যে কোনও ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করা। ওসীলা গ্রহণকারীর এই বিশ্বাস অবশ্যই থাকবে যে, ওসীলা না দিলেও আল্লাহ দুআ কবূল করেন। আল্লাহ ওসীলা ছাড়াও দুআ কবূল করতে পারেন। আবার ওসীলা গ্রহণ করলে দুআ কবূল করা আল্লাহর জন্য আবশ্যক হয়ে যায় না। বরং তিনি চাইলে কবূল করবেন। না চাইলে কবূল করবেন না। বাকী ওসীলার কারণে দুআ কবূল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বুঝাা গেলো, ওসীলা গ্রহণের কারণ হলো; ওসীলা দিয়ে দুআ করলে দুআ কবূলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শাহ ওয়ালী উল্লাহ রহিমাহুল্লাহুর ভাষ্যমতে ওসীলা গ্রহণ করা দুআর আদব।

দুয়া dua

প্রশ্ন হলো, কোন কোন জিনিষের ওসীলা দিয়ে আমরা দুআ করতে পারবো? বা কোন কোন জিনিষের ওসীলা দিয়ে দুআ করা বৈধ? মূলতা ওসীলা কয়েকপ্রকার জিনিষের হতে পারে। প্রত্যেক প্রকারের হুকুম স্বতন্ত্রভাবে জানা প্রয়োজন।
১। কোনও নেক আমল বা ইসলামে গ্রহণযোগ্য কোনও নেক কাজের ওসীলা গ্রহণ করে দুআ করা। যথা, হে আল্লাহ আমি মসজিদে যে ৫০০ টাকা দান করেছি, সেই ৫০০ টাকার ওসীলায় তুমি আমার জীবনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দাও। এই প্রকার ওসীলা গ্রহণ করা বৈধ। এতে মতবিরোধ পাওয়া যায় না।
২। জীবীত কোনও নেক এবং সালেহ ব্যক্তির ওসীলা দিয়ে দুআ করা। যেমন, “আল্লাহ, এখানে উপস্থিতদের মধ্যে যার ঈমান-আমল তোমার কাছে গ্রহণযোগ্য তার ওসীলায় আমাদের দুআ কবূল করো”। অথবা “ইয়া আল্লাহ, এই মজলিসের যার হাতখানা তোমার কাছে পছন্দনীয়, তার ওসীলায় আমাদের সকলের দুআ কবূল করো”। এই প্রকারের ওসীলা গ্রহণও বৈধ। এতেও কোনও ইখতিলাফ নেই।
৩। কোনও নবীর ওসীলায় দুআ করা। আল্লাহর কোনও নেক বান্দাদের ওসীলায় দুআ করা। অর্থাৎ মৃত কারো ওসীলা দিয়ে করা। যেমন, “ইয়া আল্লাহ, তোমার পেয়ারা হাবীব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওসীলা আমাদের দুআ কবূল করে নাও”। “আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ওসীলায় আমাদের দুআ কবূল করে নাও”। শরফুদ্দীন আবূ তাওয়ামার ওসীলায় আমাদের দুআ কবূল করে নাও। অথবা অন্য কোনও নেককার বুযুর্গদের ওসীলায় দুআ করা, আল্লাহর কাছে কোনও জিনিষ চাওয়া। এই প্রকারের ওসীলা দিয়ে দুআ করাও বৈধ। এই ধরণের ওসীলা দিয়ে দুআ করতে কোনও সমস্যা নেই। এই প্রকারেই মতবিরোধ পাওয়া যায়। আরবের অনেক শাইখ নাজায়েয বলেন। আমাদের দেশীয় সালাফীগণও হয়ত নাজায়েয বলেন। আমি দুজন কে নাজায়েয বলতে শুনেছি। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহুও সম্ভবত না জায়েয বলেন। কিন্তু উলামায়ে দেওবন্দসহ অনেকে এই প্রকার কে জায়েয বলেন। উলামায়ে দেওবন্দের সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে, “আল-মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ”সহ উলামায়ে দেওবন্দের প্রায় সকল ফতওয়া গ্রন্তে। শহীদ ইউছূফ লুধিয়ানবী রহিমাহুল্লাহ তাঁর “ইখতিলাফে উম্মত আওর সীরাতে মুস্তাক্বীম’ গ্রন্থে খুব চমৎকার করে ওসীলার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন। কেউ কেউ তো, নেক আমল দিয়ে ওসীলা গ্রহণের তুলনায় এই প্রকারের ওসীলা গ্রহণ করা উত্তম বলেন। উলামায়ে দেওবন্দ ছাড়াও অনেকে এই প্রকার কে জায়েয ও শরীয়া সম্মত বলেন। যেমন, ইমাম শাওকানী এবং তাজুদ্দীন সুবকী রহিমাহুমাল্লাহু।
তিন প্রকারের কোনও প্রকারেই দলীল-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। সেটা এই পোস্টের উদ্দেশ্য নয়। এই পোস্টে শুধু উলামায়ে দেওবন্দ সহ হানাফীদের মাসআলা তুলে ধরা হয়েছে। দলীলের জন্য মাওলানা ইলয়াস গুম্মানের একাট বিশাল প্রবন্ধের লিংক কমেন্টে দেওয়া হবে। প্রবন্ধটি উর্দূ ভাষায় লিখিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাই কে সহীহ মত, সহীহ মাসআলা অনুযায়ী চলার তাওফীক্ব দান করেন। আমীন।
shahadat huzaifa




কোন মন্তব্য নেই